বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পশুরহাটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে: কমান্ডার আরাফাত সিংহাসন হারিয়ে পাঁচে নেমে গেলেন সাকিব; শীর্ষে নবি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জিসিএ লোকাল অ্যাডাপটেশন চ্যাম্পিয়নস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ  বিনামূল্যে সরকারি বাড়ি গৃহহীনদের আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠকে দু’দেশের সম্পর্ক আগামীতে আরো দৃঢ় করার ব্যাপারে আশাবাদী বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা এল কে আদভানির সঙ্গে শেখ হাসিনার সৌজন্য সাক্ষাৎ সেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে লায়নদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামীকাল নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মেক্সিকোর নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ড. ক্লদিয়া শিনবাউম পারদোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিনন্দন ঈদের ছুটির পর সরকারী অফিস সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত : মন্ত্রিপরিষদ সচিব  জনগণের অর্থের সঠিক ব্যয় নিশ্চিত করতে সিএজি’কে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ  যারা অগ্রযাত্রায় সহায়তা করে বাংলাদেশ তাদের সঙ্গেই কাজ করবে: প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনে প্রবেশে আজ থেকে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মাউশি’র ৯ নির্দেশনা ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি নিহত: ইরানী সংবাদ মাধ্যমের ঘোষণা সামান্য অর্থ বাঁচাতে গিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে উপেক্ষা করে দেশ ধ্বংস করবেন না : প্রধানমন্ত্রী জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কেউ যেন বৈষম্যের শিকার না হন: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন  নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৪৪ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপিত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চীনে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে স্বজনদের মাঝে ফিরেছেন এমভি আবদুল্লাহ’র ২৩ নাবিক মৃত্যুদন্ডাদেশ চূড়ান্তের আগে বন্দীকে কনডেম সেলে রাখা যাবে না : হাইকোর্ট রায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় মেধায় বরাবরের মত এবারও শীর্ষে বগুড়া জেলা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সফরে আসছেন : ওবায়দুল কাদের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে মুখস্ত শিক্ষার ওপর নির্ভরতা কমাতে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ : পাশের হার ৮৩.০৪ শতাংশ গণমাধ্যম কর্মী আইন ২০২১ নিয়ে সাংবাদিক সংগঠন ও অংশীজনদের মতামত নেয়া শুরু ফের আসছে তাপপ্রবাহের দুঃসংবাদ দেশের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিতে সরকার সব ধরণের পদক্ষেপ নেবে : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে গণমূখী, পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী, উপযুক্ত ও টেকসই কৌশল উদ্ভাবনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  

স্বাধীনতা২৪.কম
  • Update Date : রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার পরামর্শ দিয়ে বিদ্যুৎ খাতে তাঁর সরকারের দেয়া ভর্তুকির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বিদুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে আরো বেশি সংখ্যক জনগণকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের বৈষম্য আরো কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
একইসঙ্গে সরকারের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখার জন্য অশুভ কোন শক্তি যাতে এদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে দেশকে যেন আবার সেই দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে পিছিয়ে দিতে না পারে সে ব্যাপারেও দেশবাসীকে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে ৭৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনকালে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ বিভাগ আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। এই সময় সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও  ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিল।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র পাঁচটি হচ্ছে- হবিগঞ্জের বিবিয়ানা-৩ ইউনিট ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, চট্টগ্রামের জুলদায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইউনিট-২, নারায়ণগঞ্জে মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট, বাগেরহাটে মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সিলেটের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উত্তরণ।
বর্তমানে বিদ্যুৎ গ্রাহক ৪ কোটি ৯ লক্ষ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার ফলে গ্রাম পর্যায়েও তাঁর সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা  অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেটা আমাদের সংবিধানে নির্দেশ করেছে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল। মানুষের মাঝে বৈষম্য কমিয়ে আনাই ছিল সেই স্বপ্ন, এই সুযোগ তাঁর সরকার সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ যারা ব্যবহার করেন তাদেরকে সাশ্রয়ী হতে হবে। কারণ আমরা যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি তার খরচ কিন্তু অনেক বেশি। কিন্তু আমরা গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য সেখানে ব্যাপকহারে ভর্তুকি দিচ্ছি। উৎপাদনের যে খরচ সেটা কিন্তু বিদ্যুৎ বিল হিসেবে আপনাদের দিতে হচ্ছেনা।
তিনি বলেন, অনেক কম টাকা বিল নেয়া হয়। সেক্ষেত্রে সকলকে একটু অনুরোধ করবো বিদ্যুৎ ব্যবহারে আপনারা সচেতন হবেন। যখন লাগবেনা নিজের হাতেই নিজের ঘরে বিদ্যুতের সুইচগুলো বন্ধ করে রাখবেন। তাতে বিলটাও কম আসবে, আপনাকেও টাকা কম দিতে হবে। আর আমাদের বিদ্যুৎও সাশ্রয় হবে। এ বিষয় একটু নজর দিতে আমি সবাইকে অনুরোধ করবো।
আগামীতে দেশে বিদ্যুৎ চালিত মেট্রোরেল চালু হবে, পর্যায়ক্রমিকভাবে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ চালিত যানবাহনের ব্যবস্থা সরকার করবে, বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি উৎপাদন হবে দেশে, রেল খাতটাকে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ চালিত খাতে নিয়ে আসা সহ এরকম ভবিষ্যতের বহুপরিকল্পনা তাঁর সরকারের রয়েছে।
তিনি বলেন,‘কাজেই বিদ্যুৎ সবসময় আমাদের লাগবে। অতীতের ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট থেকে বর্তমানে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে দৈনিক ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে নবনির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাযক্রম সম্পর্কিত প্রকাশনা ‘হান্ড্রেড’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন।
গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
জনগণের আর্থিক  সংগতি ও ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন একেবারে গ্রামের মানুষও টেলিভিশন, ফ্রিজ ব্যবহার করে। এমনকি এসিও ব্যবহার করে। অন্তত সেই সক্ষমতা আস্তে আস্তে বেড়ে উঠছে। সেটা আরো বেড়ে উঠুক সেটাই আমি চাই।
গ্রাম এবং শহরের বৈষম্যটা যেন আর না থাকে এবং গ্রামের মানুষ যাতে সবধরণের সুযোগ- সুুবিধা পায়, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার প্রধান বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারে যদি আপনারা সাশ্রয়ী না হন তাহলে কত ভর্তুকি আমরা দিতে পারবো, সেজন্য সবাইকে অনুরোধ করবো বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে। আর নিজের ঘরের বিদ্যুতের সুইচটা নিজে অফ করলে সেখানে লজ্জার কোন বিষয় নেই।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি ঘর থেকে বের হবার সময় যেখানে দেখি অপ্রয়োজনীয় সেখানকার বিদ্যুতের সুইচগুলো নিজের হাতেই অফ করি। গণভবনে বাস করলেও আমার নিজের অংশে বিদ্যুতের সুইচগুলো আমি অফ রেখে অভ্যাসটা ঠিক রাখি।
সব সময়তো আর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। কারণ ক্ষমতার মেয়াদকাল মাত্র ৫ বছর। কাজেই যখন ক্ষমতায় থাকবেন না তখনতো আবার নিজের মতই চলতে হবে। তাই অভ্যেসটা যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে তিনি লক্ষ্য রাখেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সবাইকে বলবো মিতব্যয়ী হন যেটা সাশ্রয় হবে সেটা দিয়ে আমরা হয়তো আরেকটা গরিব মানুষকে সহায়তা দিতে পারবো এবং দেশ এগিয়ে যাবে। আর এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী চলমান কোভিড-১৯ প্রতিরোধে তাঁর সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতার প্রসংসা করে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর সরকার ভ্যাকসিন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে এবং দেশের একজনও যাতে ভ্যাকসিন দেয়া থেকে বাদ না পড়ে সেজন্য যত ভ্যাকসিন লাগে তাঁর সরকার সংগ্রহ করবে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন বলেই আমরা অর্থনীতির গতিটা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। হয়তো বিশ্বমন্দার কারণে উন্নয়নের কাঙ্খিত গতিধারা অব্যাহত রাখা সম্ভবপর হয়নি।
তিনি তাঁর সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং শতবর্ষমেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনার প্রসংগ টেনে বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যারা আসবে তারা দেশের উন্নয়নের গতিটা এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেটাই আমরা চাই। এমন কেউ যেন না আসে, যারা আবার বাংলাদেশকে সেই দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ, বিজয়ী দেশ । বিশ^ দরবারে সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করেই চলবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে জাতির পিতার অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ১৯৭২-এর ১ মে প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার (পিও-৫৯) জারির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেন। তিনি গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং পল্লী বিদ্যুতের ব্যবস্থাটাও তাঁর হাতেই শুরু।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর পরবর্তী সময়ে দেশে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়ে যাওয়ায় সরকারগুলো, যার অধিকাংশই সামরিক সরকার, তারা জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ না করে মুষ্টিমেয় চাটুকার তোষামোদকারীদের মদদে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। অথচ জনগণের উন্নয়নে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তথাপি তারা তৎকালীন মিডিয়ায় নিজেদের ব্যাপক প্রচার পায় আর বঙ্গবন্ধুর সরকার যে এত উন্নয়নের কাজ করে গেছেন তার উল্টোটাই প্রচার করা হোত।
এ প্রসঙ্গে তিনি সে সময়কার গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে সমসাময়িক কালেও কোন কোন ক্ষেত্রে সে লক্ষণ খুঁজে পাওয়ার ইঙ্গিত দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি এত উন্নয়ন করার পরেও কিছু কিছু লোকের মুখে কিছু কথা যখন শুনি মনে হয় যেন সেই সব সুরে কথা বলার প্রতিধ্বনিটাই আমি শুনতে পাই। সেই সব শ্রেনীর লোকেরা কিন্তু সমালোচনা করেই যায়। যদিও আমি এর পরোয়া  করি না। কারণ দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য আমার কাজ করতে হবে এবং জাতির পিতার যে স্বপ্ন এদেশকে ঘিরে, তা পূরণ করতে হবে।


সীমাহীন লোডশেডিং কাটিয়ে উঠে ভেঙ্গে পড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে পুনবিন্যাস করার এবং উন্নত করার প্রয়াস পায় তখনই যখন ’৯৬ সালে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য আইন ও নীতিমালা করলাম এবং ছোট্ট ছোট্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র যাতে নির্মিত হতে পারে সে ব্যবস্থা করলাম। এটাকে বেসরকারি খাতে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করলাম এবং বিদেশি বিনিয়োগের চেষ্টা করলাম।
সরকার প্রধান বলেন, বেসরকারিখাতে দেশে প্রথম হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘পাওয়ার সেলে’র মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করি।
শিল্প মালিকদের ডেকে নিজস্ব উদ্যোগে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে সে সময় তাঁর উৎসাহিত করার প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবার জন্য বিশেষ আইনও আমরা করলাম। যে জন্য তাঁকে ব্যাপক সমালোচনার পাশাপাশি ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এক ডজন মামলাও খেতে হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
২০০৬ এর জানুয়ারি মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনে ১৮ জনকে হত্যাসহ বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিদ্যুতের উৎপাদন এক ইউনিটও না বাড়িয়ে উল্টো কমিয়ে ফেলার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে যাওয়ার সময় তাঁর সরকার দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াটে উন্নীত করলেও ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দেশে বিদ্যুৎ পান মাত্র ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরো দুর্ভাগ্যেও বিষয় হলো ২০১৩ সালে বিএনপি জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস যখন শুরু হলো তখন চাপাইনবাবগঞ্জের বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেবল আগুন দিয়েই পুড়িয়ে দেয়নি সেখানকার কর্মরত বিদ্যুতের ইঞ্জিনিয়ারকে সেই আগুনে ফেলে হত্যা করা হল।
শেখ হাসিনা বলেন, আসলে তারা মানুষকে কিছু দিতে পারে না। মানুষের জীবন নিতে আর কেবল ধ্বংস করতে পারে, এটা হচ্ছে বাস্তবতা। কিন্তু, আমরা বাংলাদেশের মানুষ অনেক কিছুই ভুলে যাই।
শেখ হাসিনা আক্ষেপ করে বলেন, যে কটা ভাল কাজ করেছেন তার জন্যই তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মামলা খেতে হয়েছে বা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাই বলে তিনি থেমে থাকেননি।
কারণ আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব, আলো জ¦ালাবো। আমরা প্রায় লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি এবং শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি, বলেন তিনি। সূত্রঃ বাসস

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *