শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালন শিল্পী ফরিদা পারভীনের স্বাস্থ্যের উন্নতি গ্রাহকরা পাচ্ছেন ফ্রি ইন্টারনেট ডেটা -জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের অংশ হিসেবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবেন নাগরিকেরা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তারা গণতন্ত্রের শত্রু: বিএনপি মহাসচিব আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে নবম স্থানে বাংলাদেশ বিএনপি এবং ১১ টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়া বিএনপির নামের বাকী সব সংগঠন অবৈধ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান বেগম খালেদা জিয়ার ফিরে দেখা-৪ জুলাই২৪ : ,উত্তাল সব বিশ্ববিদ্যালয়,সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক ফিরে দেখা-৩ জুলাই ২৪ : বিক্ষোভে উত্তাল শিক্ষাঙ্গন, বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ উইমেন’স এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের -বাহরাইনকে উড়িয়ে বাছাই পর্ব শুরু শ্রীলংকাকে ৪৫৮ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক বর্জনের আহ্বান শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় গায়ক নোবেলের জামিন সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ পুরোদমে এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন বিএনপি করি বলেই জুলুমের শিকার হয়েছি : অভিনেত্রী রিনা খান এমবাপ্পে হাসপাতালে ভর্তি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফর ‘অত্যন্ত সফল হয়েছে’ : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মুশফিকের রান বন্যা অব্যাহত গুম ইস্যুতে ‘অস্বীকারের সংস্কৃতি’ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ : গুম কমিশনের প্রতিবেদন সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালে রমজান শুরুর আগের সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে : প্রধান উপদেষ্টা  ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ওয়ান টু ওয়ান’ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আজ ইসরাইল হামলা চালিয়েছে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বাংলাদেশে এ বছর ঈদুল আজহায় ৯১ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে ৭০ জনকে ঠেলে পাঠিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য নির্বাচনের পর পরবর্তী সরকারের অংশ হওয়ার আগ্রহ নেই: প্রধান উপদেষ্টা আবারো দেশে করোনা সংক্রমণ কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার

মারাত্মক রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু

স্বাধীনতা২৪.কম
  • Update Date : শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার এই সময়টাতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পরিস্থিতি এমন হতে পারে, যা হয়তো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পক্ষে সামাল দেয়াটাও কঠিন হয়ে পড়বে। "দুটো মহামারি যদি একত্রে চলমান থাকে, তাহলে মানুষের জীবনের জন্য একটি প্রবল হুমকি হয়ে দাঁড়াবে," ড. লেনিন চৌধুরী বলেন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার এন্ড কন্ট্রোল রুম থেকে দেয়া তথ্য বলছে, কয়েক দিন ধরেই ডেঙ্গু সংক্রমণের সংখ্যা শতাধিক হচ্ছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১,৯২০জন, যা ২০২০ সালে সারা বছর জুড়ে আক্রান্ত সংখ্যার চেয়েও বেশি।

রাজধানী ঢাকার একটি পরিবারের সাথে কথা বলে বোঝা গেল পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক হয়ে উঠছে।সরকারি চাকরিজীবী রাজিয়া সুলতানা। বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন তার সাথে কথা হচ্ছিল তখন তিনি হাসপাতালে গিয়েছেন চিকিৎসাধীন ছেলের পরিচর্যার করতে।

রাজিয়া সুলতানা জানাচ্ছিলেন, কয়েক দিন আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তার এক ছেলে মারা গেছে।আর এখন একই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরেক জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার এই ছেলের অবস্থা কিছুটা ভাল হওয়ার পথে। ঈদের তৃতীয় দিন ও (তার ছেলে) অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরীক্ষা করানোর পর পজিটিভ আসলে আমরা একটি হাসপাতালে ভর্তি করি। 'অবস্থা খারাপ হলে অন্য হাসপাতালে নেই। সেখানেও অবস্থা আরো খারাপ হয়। দু'দিনের দিন মারা যায়, বলেন তিনি।

ডেঙ্গু সংক্রমণের হার বেশি কেন?

দু'হাজার কুড়ি সালে ১,৪০৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, আর চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই ২,২৯২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান বলেন, এবছর যে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেশি হবে তা তারা আগেই সন্দেহ করেছিলেন।

তিনি বলেন, এর কারণ হচ্ছে, ভাইরাসজনিত রোগের ক্ষেত্রে প্রতি এক বছর অন্তর সংক্রমণের সংখ্যা বেশি হয়।

"দু'হাজার কুড়ি সালে যেহেতু ডেঙ্গুর সংক্রমণ কম ছিল, তাই এবছর বেশি হবে, সেটা আমাদের আশঙ্কা ছিল," বলেন তিনি।

সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়েছিল ২০১৯ সালে।

সেবছর এক লাখের বেশি মানুষ রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর মারা গিয়েছিলেন ১৭৫ জনের বেশি।

তবে বেসরকারিভাবে মৃতর সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে ধরা হয়।

ডেঙ্গু রোগীরা কেন হুমকীর মুখে?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, এখন যেহেতু করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার উর্ধ্বমুখী, চারপাশে অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, তাই কারো জ্বর আসলেই ধরে নেয়া হয় যে তার কোভিড হয়েছে।

তিনি জানান, কোভিড আর ডেঙ্গু-দুই ক্ষেত্রেই জ্বরের উপসর্গটি সাধারণ হওয়ার কারণে এই সমস্যাটি হচ্ছে।

এছাড়া ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষার ফল আসতেও কিছুটা সময় লেগে যায়। যার কারণে ডেঙ্গু রোগীদের জটিলতা বেশি হচ্ছে এবং তাদের তখন হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়।

অন্যদিকে কোভিডের কারণে হাসপাতালে শয্যা পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ কোন শয্যা খালি থাকছে না।

"ফলে কী দাঁড়াচ্ছে, আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা থেকে অনেকটাই অবহেলিত ও বঞ্চিত।"

তিনি বলেন, "দুটো মহামারি যদি একত্রে চলমান থাকে, তাহলে মানুষের জীবনের জন্য একটি প্রবল হুমকি হয়ে যাবে, এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কখনোই এই চাপ নিতে সক্ষম হবে না।"

হাসপাতালে জায়গা পাওয়া কষ্টকর

ড. চৌধুরীর বক্তব্যর প্রতিফলন পাওয়া গেল ঢাকার আরেকটি পরিবারের সাথে কথা বলে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর সম্প্রতি সেরে উঠেছেন মেহনাজ হোসেইন অনন্যার মা। তবে কোভিড পরিস্থিতির কারণে হাসপাতালে ভর্তি করাতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছিল তাদের।

"হাসপাতালে ভর্তি করানোর আগে প্রচুর হাসপাতাল ঘাটাঘাটি করি। পরিচিতদের মাধ্যমে ভর্তি করানোর চেষ্টা করি কিন্তু পাচ্ছিলাম না,'' মিস হোসেইন বলেন।

''পরে একটি হাসপাতালে সিট পেয়ে ভর্তি করাই।"

হোসেন জানান, শুরুতে শুধু জ্বর থাকলেও পরে শরীর ব্যথাসহ আরো কিছু উপসর্গ বেড়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয় তার মাকে।

টানা ১৪ দিন ধরে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালেই থাকতে হয়েছে তাকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোভিড পরিস্থিতি সামাল দিতেই অনেকটা বেগ পেতে হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে। সেখানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হলে, সংক্রমণ থামানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সেক্ষেত্রে পদক্ষেপ অতি দ্রুত নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. রোবেদ আমিন বলেন, হাসপাতালের আইসিইউগুলো কোভিড রোগীদের চিকিৎসাতেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু রোগীরা কিছুটা সংকটের মুখে পড়ছেন।

এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে নন-কোভিড কয়েকটি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত করা যায় কিনা সে বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা সিটি কর্তৃপক্ষ কী বলছে?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৬৪২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ৬১৮ জনই ঢাকায়।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ২২৫ জন। আর ঢাকার বাইরে এই সংখ্যা ৬৭ জন।

রাজধানীতে মশা নিধনের দায়িত্বে থাকা সিটি কর্পোরেশন বলছে, যেহেতু এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে জন্মায় এবং এর উৎস বাসা-বাড়িতেই বেশি থাকে, তাই মশা নিধনে জনগণ সচেতন হয়ে পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণের দায় যেমন কর্তৃপক্ষের রয়েছে ঠিক তেমনি নাগরিকদেরও রয়েছে।

তিনি বলেন, জনসচেতনতা যদি তৈরি না হয় তাহলে মশা মারার জন্য কীটনাশকের ব্যবহার দ্বিগুণও করে দেয়া হয়, কিংবা জনবলও যদি দ্বিগুণ বা তিনগুণও করা হয় তাহলেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

জনসচেতনতা তৈরিতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রোগীদের মধ্যে শতকরা ৯৭ ভাগের বেশিই রাজধানী ঢাকায়। সূত্র: বিবিসি বাংলা

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *