বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার-প্রবীণ দিবস এ প্রধানমন্ত্রীর বাণী সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৮ জন সারা দেশে দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঢাবিতে তামাক ও ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে মতবিনিময় সভা ঐতিহাসিক স্থান আর ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ :  হুমায়ুন কবির গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির হাসিনা প্রশ্নে তৃতীয় কোনো দেশের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন নেই: তথ্য উপদেষ্টা লিওনেল মেসির শেষ দিনে পাশে থাকবেন দি মারিয়া প্রধানমন্ত্রীর সফর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের সূচনা: মাহদী আমিন দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে মৃত্যু ৬, আক্রান্ত ১৩০৫ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৩ মৃত্যু,বছরে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ ও পাথর হওয়া এড়ানোর উপায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে-যে কোনো মুহূর্তে ঘোষণা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল বিশৃঙ্খলা তৈরি ও উন্নয়ন কাজে বাধা দিলে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭ পাম্পে অকটেন সরবরাহ বাড়ল দেশে হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু লালন শিল্পী ফরিদা পারভীনের স্বাস্থ্যের উন্নতি গ্রাহকরা পাচ্ছেন ফ্রি ইন্টারনেট ডেটা -জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের অংশ হিসেবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবেন নাগরিকেরা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তারা গণতন্ত্রের শত্রু: বিএনপি মহাসচিব আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে নবম স্থানে বাংলাদেশ

‘আমি মরে গেলে তুমি শহিদের মায়ের সম্মান পাবে’: মাকে বলা শহিদ সাদ-এর শেষ কথা

স্বাধীনতা২৪.কম
  • Update Date : বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

“মা তুমি চিন্তা করো না, আমি মরে গেলে তোমাকে বীরের মা বলে ডাকবে, তুমি শহিদের মায়ের সম্মান পাবে। তোমাকে সবাই শ্রদ্ধা করবে”- পাঁচ আগস্ট দুপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মা বাধা দিলে একথা বলে বেরিয়ে যান সাদ। এটাই মায়ের সাথে সাদ-এর শেষ কথা।
ঢাকার ধামরাই পৌরসভার কায়েতপাড়া নিবাসী শফিকুল ইসলাম ও আঞ্জুমান আরার পুত্র আফিকুল ইসলাম সাদ। সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী। দুই ভাইয়ের মধ্যে সাদ বড়।
সাদ-এর মা আঞ্জুমান আরা বাসস প্রতিবেদককে জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মা আঞ্জুমান আরার সাথেই শেষ কথা হয় আফিকুল ইসলাম সাদের। বন্ধুদের সাথে দেখা করার কথা বলে মায়ের কাছ থেকে ২০টাকা চায় সে। মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়েই বেরিয়ে পড়ে সাদ। তখন মা বারবার আন্দোলনে যেতে নিষেধ করলে বলে, “মা, তুমি আমার জন্য চিন্তা করো না, আমার অনেক বন্ধুরাও তো গেছে, আমার কিছু হয়ে গেলে বা মরে গেলে তোমাকে সবাই শহিদের মা, বীরের মা বলবে।” এর কিছুক্ষণ পরই সাভার উপজেলা ও থানার মধ্যবর্তী হার্ডিঞ্জ স্কুলের সামনে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন আফিকুল ইসলাম সাদ।
আঞ্জুমান আরা বলেন, সাদ বের হওয়ার পরপরই আমার ছোট ছেলে সাজিদুলও ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এরপরই কানে ভেসে আসে গোলাগুলির শব্দ। এলাকাবাসী বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় সাজিদুলকে।
সাজিদুলের কাছেই জানতে পারি সাদ আন্দোলনে গিয়েছে। বারবার ফোনে খোঁজ নিচ্ছিলাম। দুপুরে পরপর দু’বার কথাও হয়। তৃতীয়বার বেলা ৩টার দিকে ফোন দিলে আর ফোন রিসিভ করে না। তখনই মনের ভেতর কেমন যেন করতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে আমার কাছে। বলে, আন্টি আফিকুল তো মাথায় আঘাত পেয়েছে, ওকে আমরা সবাই স্থানীয় ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। অল্প পরে আবারও ফোন দিয়ে বলে, এখানে রাখেনি, আমরা ওকে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি, আপনারা চলে আসুন। তখন আমরা সবাই দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দেখি গুলিবিদ্ধ আমার ছেলে অচেতন হয়ে পড়ে আছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তখন দ্রুত তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩দিন পর ৮ আগস্ট সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সাদ।
সাদ এর মৃত্যুতে থমকে গেছে একটি পরিবারের স্বপ্নও। আদরের সন্তানের মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না শহিদ সাদের বাবা-মা।
জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শুরু থেকেই সাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদী বিভিন্ন পোষ্ট দিয়ে নিজের সমর্থনের কথা জানান দেন। ৪ আগস্ট ফেসবুকে পোষ্ট করেন, “কুড বি এ নিউ রাইজ”। এরপর লেখেন, “যেই দেশের ইতিহাস রক্ত দিয়ে শুরু হয়েছে ওই ইতিহাস আবার লিখতে রক্তই লাগবে।”
সাদ-এর বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, “কোথা থেকে কি হয়ে গেলো! আমি হতবাক। আমার পুরো পরিবারটি এলোমেলো হয়ে গেলো। এ শোক কিভাবে কাটাবো আমরা। তিনি বলেন, আট তারিখ সকালে যখন চিকিৎসকরা বললো সাদ আর নেই, তখন আমি সাদের সামনে গিয়ে ওকে তিনবার বাবা বাবা বলে ডাকি, যদি মিরাকল কিছু হয়ে যায়। কিন্তু আমার বাবা আর উঠলো না। আমার ছেলেটা অত্যন্ত মেধাবী ছিল। পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে। এসএসসিতে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। চাকুরির প্রতি আগ্রহ না থাকলেও বড় হয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন ছিল সাদ-এর। একটি বুলেটে সবকিছুই শেষ হয়ে গেলো।”
সাদ-এর বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পড়ার টেবিল, বিছানা, খেলার ট্রফিগুলো শোভা পাচ্ছে ঘরের আনাচে কানাচে। সবই আছে নেই শুধু সাদ। সকাল গড়িয়ে দুপুর, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত, আজো যেন প্রতীক্ষায় বাবা-মা আর ভাই। তবু ফেরে না সাদ। ছেলেকে হারিয়ে এ্যালবামের ছবি, আলমারিতে রাখা খেলার ট্রফি’র মাঝেই মা আঞ্জুুমান আরা খুঁজে ফিরছেন নাড়ি ছেঁড়া ধন ছেলের স্মৃতি। সাদ-এর অনুপস্থিতি মানতে পারছেন না বাবা শফিকুল ইসলাম কিংবা আদরের ছোট ভাই সাজিদুলও।
সাদ-এর ছোট ভাই সাজিদুল বলেন, “সাদ আমার বড় ভাই হলেও তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। আমাকে অনেক ভালোবাসতো সে। যে কোন কিছুই আমার সাথে শেয়ার করতো। আমাকে সঙ্গে নিয়ে যেত। কেন যে আমাকে সেদিন সঙ্গে নিলো না, বুঝতে পারছি না। ভাইয়ের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।”
তিনি বলেন, যেদিন দেশ থেকে সত্যিকারের বৈষম্য দূর হবে, সেইদিনই সার্থক হবে আমার ভাইয়ের আত্মত্যাগ।
সাদ-এর প্রতিবেশি ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি, ছাত্র-জনতার এ আন্দোলনে নিহত ভাগ্নের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন,  লেখাপড়ার পাশাপাশি সাদ অত্যন্ত ভালো ছেলে ছিল। সমাজের সকলের সাথে সুসম্পর্ক ছিল তার। তার ভালো ব্যবহারের জন্য মহল্লার সবাই তাকে স্নেহ করতো। সাদ-এর জন্য সকলের কাছে দোয়া চান তিনি।

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *