জাসাস কেন্দ্রীয় দফতরের দায়িত্বে মোঃ মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গুনী এ অভিনেত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি’র অন্যতম সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটি’র আহবায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটি’র সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন।
নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন নাসিমা খান। তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে সুনামের সাথে অভিনয় করেছেন এবং বেশ কিছু নাটকেও অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের মাধ্যমেই বর্ষীয়ান এ অভিনেত্রী মানুষের হৃদয়ে চিরদিন থাকবেন।
নেতৃদ্বয় মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুনগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
ষাটের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নাসিমা খানের মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়েছে। বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পর আগামী ১৫ অক্টোবর তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে অভিনেত্রীর মরদেহ।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে ফিরলে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।
নাসিমা খানের বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অন্যদিকে, তার ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ। জীবদ্দশায় দুই ছেলের কারো সঙ্গেই শেষবারের মতো দেখা হয়নি এই অভিনেত্রীর।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নাসিমা খান। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্যও ছিলেন তিনি।
১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার। ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পরিচিতি লাভ করেন।
নাসিমা খান অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’, ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’ প্রভৃতি। তার মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।