তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় একক কোনো মন্ত্রণালয় বা সরকারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে সমন্বিত কর্মপন্থা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
আজ রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে নলেজ হাব ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশে স্থিতিস্থাপকতা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মপদ্ধতিতে নতুনত্ব আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে আবহাওয়া অধিদপ্তর, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর), জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মতো প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক গবেষণা ও নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং তা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
ড. মুহিত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে সব জনগোষ্ঠী সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। নারী, শিশু, প্রবীণ ও বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন। তাই এসব জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি ও প্রয়োজন আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পৃথকীকৃত তথ্য সংগ্রহ এবং কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত প্রভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী প্রভাব এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা, আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও জ্বালানি যোগাযোগ সংস্থা গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস কাউন্সিলের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড ফারাহ আনজুম এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্মসচিব ইয়াসমিন আক্তার বক্তব্য দেন।